আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে উপকারিতা ও চার কুল

ayatul kursi fazilat

আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে উপকারিতা আনেক। আয়াতুল কুরসি কোরআন শরিফের সবচেয়ে বড় আয়াত। এর ফযিলতও আর আকারের মতোই বিশাল।

কুরআন শরিফে সকল সূরার মধ্যে সকচেয়ে বড় সূরা হলো সূরা আল বাক্বার। আর আয়াতুর কুরসি তারই একটি আয়াত।

যেমন সূরা আল বাক্বার ফযিলত অথাৎ উপকারিতা অধিক ঠিক তেমনি এর আয়াতেরও। আজ আমরা কথা বললো সূরা বাক্বারার ২৫৫তম আয়াত যার নাম আয়াতুল কুরসি এর উপকারিতা বা এর ফযিলত নিয়ে।

আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে উপকারিতা

  • আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহ রাসূল (সা.) বলেছেন : যে ব্যাক্তি প্রতি ফরজ নামায শেষে আয়াতুল কুরসী পড়ে, তার জান্নাতে প্রবেশ করতে মৃত্যু ছাড়া কোনো কিছু বাধা হবে না। [সহীহ আল জামে: ৬৪৬৪]
  • হজরত আলী (রা:) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেঠি- যে ব্যাক্তি প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর আয়াতুল কুরসি নিয়মিত পড়ে, তার জান্নাতে প্রবেশে কেবল মৃত্যুই আন্তরায় হয়ে আছে। যে ব্যক্তি এ আয়াতটি বিছানায় শয়নের সময় পড়বে আল্লাহ তার ঘরে, প্রতিবেশীর ঘরে এবং আশপাশের সব ঘরে শান্তি বজায় রাখবেন। [সুনানে বাইহাকী]
  • শয়নকারে পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত তার হেফাজতের জন্য একজন ফেরেশতা পাহারায় নিযুক্ত থাকে। যাতে শয়তান তার নিকটবর্তী না হবে পারে। (বুখারি) হযরত আবু হুরাইর থেকে বর্ণিত: রাসুল (সা,) বলেছেন: সুরা বাক্বারায় একটি শ্রেষ্ঠ আয়াত রয়েছে, যে ঘরে আয়াতুর কুরসী পাঠ করা হবে সেখান থেকে শয়তান পলাতে থাকে: [মুস্তাদরাকে হাকিম: ২১০৩]
  • আবূ হুরাইরাহ (রাযিয়াল্লা-হু আনহু) বলেছেন, রাসূল করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন, সূরা আল বাক্বারায় একটি এমন আয়াত রয়েছে যা কুরআনের অন্য সব আয়াতের সর্দার বা নেতা। সে আয়াতটি যে ঘরে পড়া হয় তা থেকে শয়তান বেরিয়ে যায়। [তফসীর মা’ আরেফুল কুরআন-১ম থন্ড পৃ: ৬৭৬]

আর এ ছারাও প্রায় সকল মুসমানের মুখে একটা কথা বলতে শুনা যায় যে আয়াতুল কুরসি পড়ে কোনো কাজে গেলে বা ঘর থেকে বাহির হলে সবক প্রকার বাল মুছিবত বাধা প্রাপ্ত হয়।

চার কুল এর উপকারিতা

image id

আগে জেনে নেই চার কুল কাকে বলে?

চার কুল বলাহয় কুরআন শরীফের চারটি সূরা আর সেগুলো হলো সূরা কাফিরুন, সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস এ চারটি সূরা। এ চারকূল এর আনেক ফযিলত আছে। এর মধ্যে দুইটি ফযিলত আমি এখানে তুলে ধরলাম।

  • রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন যে ব্যক্তি ’কুল হুআল্লা-হু আহাদ’ অথ্যাৎ সূরা ইখলাস ১০ বার পাঠ করবে, আল্লাহ সেই ব্যক্তির জন্য জান্নাতে এক মহল নির্মান করবেন। (মুসনাদে আহমদ, সিলসিলাহ সহিহাহ, সহিহ আল জামে আস-সগির ৬৪৭২)
  • সূরা ফালাক ও সূরা নাস এ দুটি সূরা সম্পর্কে মহা নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন যে কোনো বিপদাপদ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করার জন্য এ দু’টি সূরার ন্যায় আর কোনো সূরা নেই। (সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং ১৮৬৩)

চার কুল সম্পূর্ণ বাংলা উচ্চারণ এবং অর্থ

ক্রমে ক্রমে সুরা গুলো লিখলাম:

সূরা এখলাস

1. কুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ।

2. আল্লা-হুসসামাদ।

3. লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইঊলাদ।

4. ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহূকুফুওয়ান আহাদ।

সূরা এখলাসের অর্থ

1. বল, তিনিই আল্লাহ, এক-অদ্বিতীয়।

2. আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী।

3. তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি।

4. আর তাঁর কোন সমকক্ষও নেই।

সূরা নাস

1. কুল আ‘ঊযুবিরাব্বিন্না-ছ,।

2. মালিকিন্না-ছ,।

3. ইলা-হিন্না-ছ।

4. মিন শাররিল ওয়াছ ওয়া-ছিল খান্না-ছ।

5. আল্লাযী ইউওয়াছবিছুফী সুদূরিন্নাছ-।

6. মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্না-ছ।

সূরা নাস এর অর্থ

1. বল, ‘আমি আশ্রয় চাই মানুষের রব।

2. মানুষের অধিপতি।

3. মানুষের ইলাহ-এর কাছে।

4. কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট থেকে, যে দ্রুত আত্মগোপন করে।

5. যে মানুষের মনে কুমন্ত্রণা দেয়। ৬) জিন ও মানুষ থেকে।

সূরা আল ফালাক

1. কুল আ‘ঊযুবিরাব্বিল ফালাক।

2. মিন শাররি মা-খালাক।

3. ওয়া মিন শাররি গা-ছিকিন ইযা-ওয়াকাব।

4. ওয়া মিন শাররিন-নাফফাসাতি ফিল-উকাদ।

5. ওয়া মিন শাররি হা-ছিদিন ইযা-হাছাদ।

সূরা আল ফালাক এর অর্থ

1. বল, ‘আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি ঊষার রবের কাছে,

2. তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে,

3. আর রাতের অন্ধকারের অনিষ্ট থেকে যখন তা গভীর হয়,

4. আর গিরায় ফুঁ – দানকারী নারীদের অনিষ্ঠ থেকে।

5. আর হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে’।

সূরা কাফিরুন

1. কুল ইয়াআইয়ুহাল কা-ফিরূন।

2. লাআ‘বুদুমা-তা‘বুদূন।

3. ওয়ালাআনতুম ‘আ-বিদূনা মাআ‘বুদ।

4. ওয়ালাআনা ‘আ-বিদুম মা-‘আবাত্তুম।

5. ওয়ালাআনতুম ‘আ-বিদূনা মাআ‘বুদ।

6. লাকুম দীনুকুম ওয়ালিয়া দীন।

সূরা কাফিরুন বাংলা অর্থ

1. বল, ‘হে কাফিররা,

2. তোমরা যার ‘ইবাদাত কর আমি তার ‘ইবাদাত করি না’

3. এবং আমি যার ‘ইবাদাত করি তোমরা তার ‘ইবাদাতকারী নও’

4. ‘আর তোমরা যার ‘ইবাদত করছ আমি তার ‘ইবাদাতকারী হব না’

5. আর আমি যার ‘ইবাদাত করি তোমরা তার ‘ইবাদাতকারী হবে না’

6. ‘তোমাদের জন্য তোমাদের দীন আর আমার জন্য আমার দীন।’

আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে উপকারিতা

আমাদের এ লেখাটিতে আমরা বলেছি আয়াতুল কুরসি পাঠের উপকারিতা সম্পর্কে এবং এ লেখাটিতে আপনি পেয়ে যাবেন আয়াতুর কুরসির ফযিলত এর সাথে সাখে এর পিডি এফ ডাউনলোড লিংক এবং অডিও।

Featured